ইকবালের বাসার ছাদে আমাদের আরেকবার বসা দরকার

হঠাৎ করে আজ মনে হল আমাদের এক জীবন শেষ। চমকে উঠি। ইকবালের বাসার আড্ডাটা আর হচ্ছে না তাহলে? এক দশকের ঘড়ি ঘুরল মাত্র। এখনো ওর ঘরটা খুঁজলে ধুলোপড়া তাসের দু-একটা কার্ড মিলবে। ছাদের চিলেকোঠায় আহাম্মকি খরগোশ-পালন-প্রজেক্ট এর খাচাটা তো আর সরানোই গেল না। অথবা আমাদের 'চমত্কার' সমিতির খাতাটা কি একেবারে আস্তাকুরে হারিয়েই গেল? চেগা ইমরান, যে নাকি এখন অস্ট্রলিয়ায়, ইস্তিরি বন্ধক রেখে যাকে ঋণ দিয়েছিলাম, টাকাটা পুরো শোধ দিয়েছিল? ইফতার পার্টিটা হচ্ছে না কয়েক বছর হয়। বাঙালি বলে কথা--উত্সব-পাগল। রোজার ধার ধারি না এক শালাও অথচ খাবার বেলায় ষোলোআনা। নারিন্দার ঘোল ওরফে মাঠা নিয়ে প্রতিবারই কাড়াকাড়ি চলত। প্রেমে পড়ে মণ্ডলটা এমন আমূল বদলে যাবে কে জানত। বাবার সিন্দুক থেকে চুরি-করা-টাকায় সে আমাদের দেদারছে রেস্টুরেন্টে খাইয়েছে; ওর পকেট দিয়ে এখন একটা সিকিও এদিকওদিক হয় না। একে একে সবাই গোপনে-অগোপনে কে কবে বিয়ের ফাসে ঝুলে পড়ল, খবরই নেই। অবশেষে জগাটাও করি করি করছে। সেদিন বলছিল, খুব একা হয়ে গেছি রে দোস্ত, একই শহরে থাকি, কারো সাথে দেখা হয় না, সবাই এত ব্যস্ত, তুই দেশে ফিরে আয়, বিয়েসাদী তাহলে বাদ। ফিল্ম তো আমাদের বানাতেই হবে, না? শাকিলটার জন্য মায়াই হয়--তিন তিনবার মটরবাইক এক্সিডেন্ট। পইপই করে মানা করেছিলাম। দাঁতগুলো তো গিয়েছেই, জানটা কেবল রক্ষা শেষবার। হ্যা, অনেক কিছু ঘটে গেছে, অনেক সময়। আমাদের আরেকবার, আর একবার সবার ইকবালের বাসায় বসা দরকার। অনেক বোঝাপড়া আছে, চেনার বাকি আছে। অন্তত সবাই একটা দিনের জন্য একসাথে হওয়া, বোঝাপড়া নাহয় বাদই দিলাম, কয়েকটা মুহূর্তের হাসি-ঠাট্টা হল, হিসেব নিকেশটা নিজের ভিতর নিজেই করলাম।

লন্ডন, ডিসেম্বের, ২০১১